নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের প্রস্তুতিকালে ঢাকার মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে মহাখালী জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা গলি থেকে তাদের আটক করা হয়। বনানী থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান জানান, বাকিদের ধাওয়া করার সময় তারা একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

আটক চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে— সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী আসলাম মিয়া ও আশিকুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের কর্মী মাহফুজুর রহমান সিয়াম ও মনির হোসেন। বনানী থানার পরিদর্শক মেহেদী হাসান বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন আওয়ামী লীগ কর্মী মিছিলের উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হচ্ছিলেন। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা একজনকে ধরে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন এবং বাকি তিনজনকে পুলিশ আটক করে।”

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ব্যানারে এই মিছিলের চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযান চলাকালীন পুলিশ একটি ব্যানার উদ্ধার করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ থাকা অন্যান্য দলের কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে দলের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে রয়েছেন, যার ফলে তারা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না।

জুলাই মাসের গণআন্দোলন দমাতে শত শত মানুষকে হত্যার মতো গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব অবৈধ কর্মসূচির সময় তারা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে ধরপাকড় অভিযান পরিচালনা করছে।