পিরোজপুর প্রতিনিধি

বাবার ছায়া আগেই হারিয়েছিলেন, আর ঠিক দুই মাস আগে চিরতরে হারিয়েছেন মাকে। মাত্র তিন বছরের একটি অবুঝ শিশু সন্তানকে বুকে আগলে রেখে প্রতিদিন তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন মো. আনোয়ার হোসেন। দু'টি হিপ (কোমর বা জয়েন্ট) সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার দুটি পা শুকিয়ে চিকন হয়ে গেছে। আজ অর্থাভাবে সেই ফুটফুটে শিশুটির বাবা বিছানায় পঙ্গুত্ব বরণ করে দিন কাটাচ্ছেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের রাড়িপাড়া বটতলা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন (জন্ম: ২০-১১-১৯৯৮ ইং, পিতা: মৃত মো. আবুল খলিফা, মাতা: রওশনারা, এনআইডি নং: ৮২৬৫৫০৪২৮৫)। এক সময় একটি কোম্পানিতে চাকরি করে নিজের ও পরিবারের মুখে হাসি ফোটালেও আজ তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব। নিজের ও মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে ভিটেমাটি ও সহায়-সম্পত্তি সব বিক্রি করে ফেলেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপরই নির্ভর ছিল পুরো সংসার।

আনোয়ার হোসেনের এই চরম দুর্দিন ও মানবেতর জীবনের খবর পেয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান 'কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন'-এর প্রতিনিধি দল এবং 'ভাই বন্ধু ব্লাড ডোনার্স যুব ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতিসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তারা তার করুণ অবস্থা স্বচক্ষে দেখেন এবং সান্ত্বনা জানান।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আনোয়ার হোসেনের সুস্থতার জন্য দুটি হিপ অপারেশনই অত্যন্ত জরুরি ও বাধ্যতামূলক। প্রতিটি অপারেশনের জন্য ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১৩ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। সর্বস্ব হারিয়ে আজ এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করার মতো বিন্দুমাত্র সামর্থ্যও তার নেই।

তার এই অমানবিক কষ্ট দেখে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের বিত্তবান, প্রবাসী এবং সর্বস্তরের মানবতাবাদী মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। ৫ টাকা, ১০ টাকা কিংবা সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য সহযোগিতাও বাঁচাতে পারে একটি তাজা প্রাণ, রক্ষা করতে পারে একটি অবুঝ শিশুর মাথার ছাদ।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:

আপনার একটুখানি মানবিক সহায়তা ফিরিয়ে দিতে পারে আনোয়ার হোসেনের স্বাভাবিক জীবন। সাহায্য পাঠানোর জন্য রোগীর নিজ মোবাইল ব্যাংকিং পার্সোনাল নম্বর:

বিকাশ / নগদ / রকেট: 01714-947757 (Personal)

আসুন, দলমত নির্বিশেষে এই অসহায় পিতার পাশে দাঁড়াই। আপনার ছোট্ট সহযোগিতাই হতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয়।