দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বিশেষ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে দলের পক্ষ থেকে জানান যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন একনিষ্ঠ এবং সংগ্রামী নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন। তবে নিয়মানুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথেই তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি কর্মকর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিনের কাছে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রগুলো আগামী ১৬ আগস্ট বাছাই করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত হয়েছে ১৮ আগস্ট। যদি একাধিক প্রার্থী টিকে থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার ফলে এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রার্থী দেওয়ায় এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং অভিজ্ঞতাপূর্ণ। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব সামলেছিলেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
সংসদীয় রাজনীতিতেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। তবে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী গণআন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ সময় ধরে দলের হয়ে লড়াই করে আসছেন।








