সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নতুন কমিশন গঠন হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১২ আগস্ট) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমানে দুদকে কোনো কার্যকর কমিশন নেই, আর এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনার মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তাই নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর অভিযোগটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের ঋণের নামে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকাকালীন নিজের প্রভাব খাটিয়ে এই অর্থ আত্মসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসে গত ২৯ জুলাই, যখন ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষে দুদকের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেলের পরিচালক অথবা চেয়ারম্যানের বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কেবল সাবেক রাষ্ট্রপতিই নন, বরং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মাদ সাইফুল আলম (এস আলম) এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ মোট ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে কৌশলে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম-অপকর্মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া এবং মাহবুব উল আলমসহ আরও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই বিতর্কিত ঋণ অনুমোদনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে চারটি পৃথক অডিট ফার্মের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করে এবং সেখানে বিভিন্ন গুরুতর অসঙ্গতি শনাক্ত করা হয়েছে, যা দুদকের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দুদকের সচিব জানিয়েছেন, অভিযোগটি জমা পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি কার্যক্রম শুরু হয়নি। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পুরো বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








