বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত এবং মজবুত করার সুযোগ ভারতের এখনও রয়ে গেছে এবং ভারত সরকারের উচিত এই সুযোগটিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এই মন্তব্য করেন। ভারতের প্রতি এই বার্তা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দ্বিপক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক কিন্তু সতর্ক সংকেত দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত ও জাপান সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশন অন্যতম। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের কারণে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। শামা ওবায়েদ বলেন, "অভ্যন্তরীণ এই ব্যস্ততাগুলো হ্রাস পেলে এবং সময়সূচীর সাথে সামঞ্জস্য তৈরি হলে অবশ্যই ভারতের পাশাপাশি জাপান সফর অনুষ্ঠিত হবে।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ সরকার সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে, তবে সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচীর ওপর নির্ভরশীল।
দ্বিপক্ষিক সমস্যা সমাধানের উপায় সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যেকোনো জটিল সমস্যা বা দ্বিপক্ষিক মতপার্থক্য দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীদের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সবচেয়ে বড় সুযোগ থাকে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তৈরি হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যখনই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কথা বলেন এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়, তখন দীর্ঘদিনের অনেক সমস্যা সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়। সেই সুযোগটি এখনও বিদ্যমান রয়েছে এবং ভারতের উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময় ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই থাকে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক অনেক কর্মসূচি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সামনে পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে—এই সব কাজ আগে সম্পন্ন করা প্রয়োজন।" তিনি আরও যোগ করেন, সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত থাকলেও সবকিছুর সমন্বয় হলে ভারত ও জাপানসহ প্রয়োজনীয় সব সফরই সম্পন্ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন নাকি এটি হবে একটি দ্বিপাক্ষিক সফর—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রিকস সম্মেলন হতে এখনো অনেক দেরি। এক মাসের ব্যবধানে অনেক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই এখন থেকে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সবশেষে, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে নানা ধরনের কথাবার্তা বলেন, তখন বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ তা কোনোভাবেই ইতিবাচকভাবে নেয় না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং মনে রাখে, এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।








