বরগুনার তালতলীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ কর্মী শামীম গোলন্দাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের জন্য বিয়ের দাবি জানালে অভিযুক্ত শামীম তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। বুধবার (১২ আগস্ট) ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে তাকে আদালতে সোপর্দ করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মৌপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী দুই সন্তানের জননী। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে তিনি বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী শামীম গোলন্দাজ তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে ওই নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসীর নজরে আসে এবং খুব দ্রুতই পুরো এলাকায় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে।

সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে ওই নারী শামীম গোলন্দাজের কাছে দ্রুত বিয়ের কথা জানালে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শামীম গোলন্দাজ তাতে কোনো তোয়াক্কাই করেননি এবং দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেন। অবশেষে আইনি সহায়তা পেতে ভুক্তভোগী নারী বুধবার থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত শামীমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম নিশ্চিত করে জানান, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আসামি শামীম গোলন্দাজকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।