ভারতের অনেক নামী অভিনেতা এবং ব্যবসায়ী বর্তমানে দুবাইতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মুখে ভারতের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের উন্নতির কথা বললেও, বাস্তবে দুবাইতে ডেরা বেঁধে রাখা এই তারকাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস)-এর সভাপতি রাজ ঠাকরে। বিশেষ করে অভিনেতা বিবেক ওবেরয় এবং আর মাধবনের নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার যদি ভারতকে সত্যিই ‘দুর্দান্ত’ করে তোলে, তবে তারা কেন নিজের দেশ ছেড়ে দুবাইতে বসতি স্থাপন করলেন?
শনিবার মুম্বাইতে এমএনএস-এর ছাত্র সংগঠন ‘মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ বিদ্যার্থী সেনা’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রের বর্তমান নীতির সমালোচনা করে রাজ ঠাকরে বলেন, দেশের হাজার হাজার শিল্পপতি ইতিমধ্যেই তাদের সমস্ত সম্পদ এবং ব্যবসা গুটিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এই প্রবণতাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।
২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বায়োপিকের কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাজ ঠাকরে বলেন, “বিবেক ওবেরয়, যিনি মোদীর জীবনীর ওপর সিনেমা বানিয়েছিলেন এবং সেখানে মোদীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, তিনিও এখন দুবাইতে চলে গেছেন।” এরপর তিনি আর মাধবনের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন, “আর মাধবন, যিনি বারবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করেছেন, তিনি কোথায় থাকেন? তিনি থাকেন দুবাইতে। তাহলে আপনারা যদি ভারতকে এতই ভালোবাসেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়ন পরিকল্পনায় এত বিশ্বাস রাখেন, তবে কেন আপনারা পরদেশে বাস করছেন? কেন আপনাদের পরিবার দুবাইতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে?”
রাজ ঠাকরে আরও অভিযোগ করেন যে, এই ধরনের তারকারা কেবল সুযোগমতো ভারতে আসেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি সিনেমার কাজ করেন এবং কাজ শেষ হলে পুনরায় দুবাই ফিরে যান। তবে এই বিষয়ে আর মাধবন জানিয়েছেন যে, করোনা মহামারির সময় তাঁর ছেলের সাঁতারের ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করেই তিনি দুবাইতে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিবেক ওবেরয় দাবি করেছেন যে, ব্যবসার প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি দুবাইতে গেছেন।
অনুষ্ঠানে রাজ ঠাকরে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষার বিষয়েও কথা বলেন। তিনি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের উদ্ধৃত করে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ‘পথভ্রষ্ট শিশুদের’ ক্ষমা করে সঠিক পথে আনা উচিত, রাজ ঠাকরে বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। কারোই এত নিচু স্তরের ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই কথাটি বিজেপির নিজস্ব কর্মীদেরও মনে রাখা উচিত। তাঁর মতে, বিজেপির ট্রল বাহিনী মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং ইন্দিরা গান্ধীর মতো জাতীয় আইকন থেকে শুরু করে ঠাকরে পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু বানায়। রাজ ঠাকরে স্পষ্ট করে বলেন, “বিজেপি সমর্থকদেরও এখন থামতে বলা উচিত। কারণ এই ট্রলিংয়ের সংস্কৃতি শুরু করেছিল খোদ বিজেপির ট্রল টিম। যেমন কর্ম, তেমন ফল।”











