যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক সামরিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাব হিসেবে এবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দফতর থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে মার্কিন বাহিনীর চালানো ধারাবাহিক হামলার প্রতিশোধ নিতে 'অপারেশন সায়েকেহ' (বজ্রপাত)-এর ২৭তম ধাপের আওতায় কুয়েতের আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এই অভিযানের আওতায় কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক বাড়িতে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয় যে, কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে লোইটারিং বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল মার্কিন বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর লজিস্টিক সহায়তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং এখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমান ও নজরদারি অভিযানগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিচালনা করে।
একইসঙ্গে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতেও উন্নত ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো, যেমন—বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, নেভিগেশন সিস্টেম এবং প্রশাসনিক সহায়তা ভবনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা। এটি মূলত মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি বিমানের প্রধান কেন্দ্র এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের একটি বৃহৎ হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইরান অভিযোগ করেছে যে, চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের' শর্তাবলি চরমভাবে লঙ্ঘন করে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে হামলা চালিয়ে আসছে। এর প্রতিক্রিয়ায় 'অপারেশন নাসর-২' এবং 'অপারেশন সায়েকেহ'-এর অধীনে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ও তথাকথিত ‘জায়নিস্ট আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নিয়ে নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেও এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।











