লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিএনপির দুই স্থানীয় নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত নেতারা হলেন দরবেশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের দল থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এই অব্যাহতির পত্রে দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বাক্ষর করেছেন। পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং গুরুতর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে হারুন ও ইউছুফকে স্থায়ীভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে তারা যদি কোনোভাবে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তবে তার জন্য তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের অনুলিপি লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে যথাযথভাবে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ ও মো. ইউছুফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কোনো সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, "সরকার বর্তমানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, হারুন ও ইউছুফ তাদের ওয়ার্ডের একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের কাছ থেকে ওই সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।"

তিনি আরও জানান, এই অভিযোগের কথা জানতে পেরে তিনি এবং কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খোরশেদ আলম আরও বলেন, "হারুন ও ইউছুফ দাবি করেছিলেন যে, টাকাগুলো মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ নিয়েছেন। তবে আমাদের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, মূলত ওই দুই নেতাই টাকাটি গ্রহণ করেছেন। যেহেতু মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিএনপির সদস্য নন, তাই তার বিরুদ্ধে আমাদের দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে দলীয় পদের সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হারুন ও ইউছুফকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।"