জি এম রাজু আহমেদ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চম্পা মল্লিক নামে এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

চম্পা মল্লিক (৩৫), পিতা দীলিপ মল্লিক, গ্রাম ও পোস্ট হরিনগর, শ্যামনগর জানান, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে তাকে জড়িয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য এবং ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে, যা তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সত্যতা যাচাই না করে এসব প্রচার করা হচ্ছে, যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।”

তিনি আরও জানান, স্বামীর সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে চলমান দুটি মামলার একটির রায় ইতোমধ্যে তার পক্ষে গেছে এবং অন্যটি বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় তার স্বামী তাকে ফাঁসাতে এবং চলমান মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত সোমবার অফিসের দায়িত্ব পালন শেষে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে একটি প্রশিক্ষণ সভা থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক পরিচিত যুবকের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। পরে ওই যুবক বাজারের কিছু জিনিস নিয়ে তার বাড়িতে আসেন। এসময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে আরও ১২-১৪ জন লোক এসে ওই যুবককে মারধর করে ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

চম্পা মল্লিক অভিযোগ করেন, একই সময়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, সিগারেটের আগুন দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়। এসময় ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা হয় এবং তার মায়ের অপারেশনের জন্য রাখা টাকা, এনজিও কার্যক্রমের অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। হামলাকারীরা তাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা সম্পূর্ণ বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা হলেন— সাইফুল ইসলাম (পিতা গুটি খলিল), নজু (পিতা ওসমান মোল্ল্যা), ওবায়দুল্লাহ গাইন (পিতা ইয়া গাইন) ও রবিউল ইসলাম (বাবু) (পিতা আমজাদ শেখ)।

চম্পা মল্লিক জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি ঘটনার সাক্ষীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তিনি শ্যামনগর থানা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি তিনি সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।