কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভবনে ইরানি বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত একজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র সৌদ আল আতওয়ান জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি উদ্ধার অভিযান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম শুরু করে। একই সময়ে অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে হামলাটি ঠিক কীভাবে সংঘটিত হয়েছে, হামলার ধরন কী ছিল কিংবা নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সৌদ আল আতওয়ান আরও উল্লেখ করেন যে, কুয়েতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের নাগরিক এবং বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে যাতে পুনরায় এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা নতুন করে পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো চরম সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে এই হামলার ঘটনা সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই স্পর্শকাতর ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি। (সূত্র: গালফ নিউজ)











