নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসা কুখ্যাত কিশোর গ্যাং লিডার শ্রাবণ এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি-১১-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সাজানো একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১১। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকা থেকে এই অপরাধী চক্রটিকে আটক করা হয়। অভিযানে শ্রাবণসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি ও ছয়টি ধারালো রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত শ্রাবণের অপরাধী ইতিহাস ও তার এলাকায় মানুষের মাঝে থাকা আতঙ্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানান অধিনায়ক। তিনি বলেন, শ্রাবণ কেবল একজন কিশোর গ্যাং লিডারই নয়, বরং সে ছিল রূপগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী। মূলত তার পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকেই এই কুখ্যাত উপাধির উৎপত্তি। জানা গেছে, তার বাবার বিরুদ্ধেও এলাকায় অতীতে নানা ধরনের অসৎ আচরণের কারণে ‘কুত্তা’ উপাধি ছিল। সেই ধারা বজায় রেখে নিজের উগ্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও ত্রাস সৃষ্টি করায় শ্রাবণ নিজেও লাভ করে ‘কুত্তা শ্রাবণ’ উপাধি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রাবণের পুরো পরিবারই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল, যার ফলে এলাকাবাসী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত ছিল।
এসআরবি-এর প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রাবণের নেতৃত্বাধীন এই কিশোর গ্যাং রূপগঞ্জের চনপাড়া ও রূপসা পৌর এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, জমি দখল, জবরদখল এবং চাঁদাবাজির মতো প্রায় সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে এই চক্রটি সরাসরি জড়িত ছিল। তারা কেবল অপরাধই করত না, বরং সাধারণ মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, দোকানে আগুন দেওয়া এবং প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় চরম অরাজকতা সৃষ্টি করত।
শ্রাবণের বিরুদ্ধে অপরাধের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ। রূপগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ মোট ১৮টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার এই গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে চনপাড়া ও রূপসা এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ আরও জানান, এলাকায় শান্তি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসী ও গ্যাং কালচার নির্মূল করতে র্যাবের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
















