মো: আল-মাহফুজ শাওন

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন করে ২৪২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটিতে পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন বাগেরহাটে মারা গেছেন।

নতুন ভর্তি হওয়া ২৪২ রোগীর মধ্যে ২০৬ জন সরকারি হাসপাতাল এবং ৩৬ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।

কোন জেলায় কত রোগী ভর্তি

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় ৯৭ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৫ জন, বাগেরহাটে ১৭ জন, সাতক্ষীরায় ৮ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, যশোরে ৩৭ জন, ঝিনাইদহে ২ জন, মাগুরায় ২ জন, নড়াইলে ২ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ জন এবং মেহেরপুরে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরে আক্রান্ত ৭ হাজার ৬৬০

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ৭ হাজার ৬৬০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৬ হাজার ৫৭৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ১৭৯ জনকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৫

চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে খুলনা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে দুজন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন, বাগেরহাটে দুজন এবং যশোরে একজন রয়েছেন।

খুলনায় রোগীর চাপ বেশি

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাপ সবচেয়ে বেশি।

খুলনা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৮০ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ছাড়া বাগেরহাটে ১০৮ জন, সাতক্ষীরায় ১৮ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, যশোরে ৯৮ জন, ঝিনাইদহে ১৭ জন, মাগুরায় ১৪ জন, নড়াইলে ২৩ জন, কুষ্টিয়ায় ১২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫ জন এবং মেহেরপুরে ৬ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় খুলনা বিভাগে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।