আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমূল বদলে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ জেল’-এর নাম। এখন থেকে এর নতুন নাম হবে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস’। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কারা অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আইজি প্রিজনস বলেন, বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কারা বিভাগের বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানগুলোকে যুগোপযোগী করার কাজ জোরদার করা হয়েছে। এই লক্ষ্যেই ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে অনুমোদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কারাগারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে বিভিন্ন জায়গায় হামলা, ভাঙচুর এবং বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে মোট পাঁচটি কারাগার থেকে ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যান। সেই সময়ে কারাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও লুট করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল নরসিংদী কারাগারে, যেখান থেকে একাই ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান।
পলাতক বন্দিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আইজি প্রিজনস জানান, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এদের মধ্যে ১৬৬ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কারাগারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, বিশেষ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ফোনে কথা বলা বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কারাগারে কাউকেই কোনো ধরনের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, গত এক বছরে কারাগারগুলো থেকে ৩ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে এ ধরনের যেকোনো অনিয়ম বা নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে বর্তমানে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
পরিশেষে, কারাগারের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান জনবল সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইজি প্রিজনস জানান, এই সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ১ হাজার ৮৯৯টি পদ অনুমোদন করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।











