সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার, করপোরেট ব্যক্তিত্ব এবং প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার সোলায়মান সুখন দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন। তবে তার এই প্রত্যাবর্তন যতটা না চমকপ্রদ, তার চেয়ে বেশি বিতর্কিত। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে তিনি জনসম্মুখ থেকে সম্পূর্ণ নিখোঁজ ছিলেন। এমনকি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও কোনো সক্রিয়তা দেখা যায়নি। তার সর্বশেষ পোস্টটি ছিল ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই।

দীর্ঘ বিরতির পর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তার ফেসবুক পেজে একটি ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক শেয়ার করা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘নিউক্লিয়ার ইজ দ্য ফিউচার’ (Nuclear is the Future)। এই ভিডিওটিতে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পারমাণবিক শক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

ভিডিওটির মূল তথ্যানুযায়ী, প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য এবং পারমাণবিক শক্তির যৌথ অবদান বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হিসেবে কয়লাকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩৪ শতাংশ আসে কয়লা থেকে এবং আরও ৩৪ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। এছাড়া মোট উৎপাদনের ৯ শতাংশ আসে পারমাণবিক শক্তি থেকে। বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ৪৪০টি বাণিজ্যিক পারমাণবিক চুল্লি সচল রয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৪টি, ফ্রান্সে ৫৭টি এবং চীনে প্রায় ৬৩টি চুল্লি কার্যকর। এছাড়া বর্তমানে ৮০টি চুল্লি নির্মাণাধীন এবং আরও ১০০টিরও বেশি চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ এখন অনেক বেশি। যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে, সেখানে নবায়নযোগ্য এবং পারমাণবিক শক্তি খাতে মোট বিনিয়োগ ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা এখন বদলে যাচ্ছে। অনেক দেশ এখন নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন অথবা পুরোনো কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, পোস্টটি করার কিছু সময় পরেই সোলায়মান সুখন তার ফেসবুক পেজ থেকে ‘নিউক্লিয়ার ইজ দ্য ফিউচার’ শীর্ষক ওই ভিডিও লিঙ্কটি মুছে ফেলেন।

সোলায়মান সুখনের এই রহস্যময় নীরবতা এবং হঠাৎ আবির্ভাবের পেছনে গভীর বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি আওয়ামী সরকারের সাথে যোগসাজশ করে আন্দোলন দমানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভয় দেখিয়ে এবং মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে সরকারের পক্ষে স্ক্রিপ্টেড ভিডিও বানানোর চাপ দেওয়া হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে সোলায়মান সুখনের বড় ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়। এছাড়া প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধেও সরকারের হয়ে ক্যাম্পেইন করার অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, সোলায়মান সুখন সম্প্রতি মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর চিফ পাবলিক রিলেশন বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে আর আসেননি, যা তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে।