গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মধুচক্র বা ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। আটক করার পর উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে এবং পরবর্তীতে পুলিশে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে আকন্দ টেক্সটাইল মিলসের সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে এই অভিযান চালানো হয়।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন জান্নাত রীতু, জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া, বাড়ির মালিক খোকনের স্ত্রী সেলিনা এবং মাহবুব। তবে জানা গেছে, এই চক্রের প্রধান অভিযুক্ত মুক্তা কৌশলে मौके থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় এক নারী এবং কয়েকজন পুরুষ ওই চক্রের সদস্যদের লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেপিরবাড়ি গ্রামের আকন্দ টেক্সটাইল মিলসের পাশে খোকনের বাড়িতেই এই অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এখানে বিভিন্ন মেয়েদের এনে ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলা হতো। এরপর কৌশলে ছেলেদের বাড়িতে ডেকে এনে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হতো এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। এই ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য।
তদন্তে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে রীতু ও মারিয়া মাওনা পিয়ার আলী কলেজের শিক্ষার্থী। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, খোকন ও তার স্ত্রী সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যার পর তাদের বাড়িতে মেয়েদের নিয়ে আসতেন এবং কৌশলে ছেলেদের ডেকে এনে এই ধরণের অসামাজিক কাজ করতেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ওই বাড়ির সামনে ৩-৪টি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন যুবক আসতেন। তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হতো, যাতে বাইরের কেউ বুঝতে না পারে যে ভেতরে মানুষ আছে। এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, খোকন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
এই বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।











