ফেনী প্রতিনিধি :

ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের তেঁতৈয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। প্রায় ৮ ফুট চওড়া এ রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ১৮ আগষ্ট ঘটনারস্থল পরিদর্শন করেন সদর ইউএনও নাছরিন সুলতানা কান্তা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তেঁতৈয়া মৌজার বিএস ১০৪২ দাগের ওপর দিয়ে প্রায় ৩ হাজার ফুট দীর্ঘ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে ব্যবহার করে আসছেন। এ রাস্তা নিয়ে পূর্বে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হয়। সেখানে জমির মূল্য বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার মাধ্যমে রাস্তাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এ বিষয়ে লিখিত আপসনামাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

আব্দুল মমিন গংদের অভিযোগ: অভিযোগকারী আব্দুল মমিন গংদের দাবি, মোছা. মোহেছনা আক্তার ও মো. আমিনুল হকসহ কয়েকজন সম্প্রতি ওই রাস্তার ওপর ইটের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। এতে স্থানীয়দের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

তারা আরও দাবি করেন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা দিতে গেলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ : বিষয়টি নিয়ে ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মিস মামলা নং-১২৩/২০২৬, তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

আদালতের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের উদ্বেগ: স্থানীয় সালিশদার ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। তাই বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করে রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন সুলতানা কান্তা বলেন, পূর্বের বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটি আগে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সেটি বাস্তবায়ন না হলে জনগণের স্বার্থে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে বলেও জানান তিনি।

তবে মোছা. মোহেছনা আক্তার ও মো. আমিনুল হকসহ অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।