সাধন সাহা জয়

​ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে হওয়া টানা বৃষ্টির প্রভাব ও পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

তবে সোমবার দুপুর থেকে বেশ কিছু এলাকার পানি নামতে শুরু করলেও হাওড়ার নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে পানিবন্দি হয়ে পড়া ১৫টি পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় প্রথমে পাঁচটি এবং পরবর্তীতে আরও ১০টিসহ মোট ১৫টি পানিবন্দি পরিবারের হাতে চাল ও শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া সশরীরে উপস্থিত থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে এই সহায়তা পৌঁছে দেন।

​স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫০ হেক্টর ধানি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত রবিবার বিকেল থেকেই পানি বাড়তে শুরু করে। তবে সোমবার সকাল থেকে হাওড়া নদীর আশেপাশের এলাকার পানি কমতে শুরু করলেও কালন্দী খাল সংলগ্ন এলাকায় পানি দুপুর নাগাদ আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকে।

​এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, আকস্মিক পানি বাড়ার ফলে আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ও মোগড়া ইউনিয়নের কিছু নিচু জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

তবে খুব দ্রুতই পানি নেমে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং এতে ফসলের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না।

​আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া জানান, হাওড়া নদীর আশেপাশের এলাকার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে কালন্দী খাল এলাকার আশেপাশে জমির পানি এখনো আগের মতোই রয়েছে।

সৌভাগ্যবশত বাড়িঘরে পানি ওঠেনি এবং আশ্রয়কেন্দ্র খোলার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। প্রশাসন পুরো বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।