সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর দৈনন্দিন চলাফেরা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে এবং পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। তবে এই গুরুতর অসুস্থতার মাঝেও নিকট ভবিষ্যতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। আজ রবিবার 'বাংলাদেশ প্রতিদিন'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। তাঁর জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং দৈনন্দিন সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, "এখন আমার হাঁটাচলা করতে খুব কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে চলাফেরা করতে পারছি। এই কারণেই আপাতত দেশের বাইরে কোথাও যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি না।"
পদত্যাগের মাত্র দুই দিন পর তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সাথে অবস্থান করছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি শারীরিক সমস্যা বোধ করলেই গুলশানের বাসায় নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নিচ্ছেন তিনি। বঙ্গভবন ছেড়ে নিজের বাসায় আসার পর এ পর্যন্ত একবার সিএমএইচে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবিধানের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করেছে। আগামী ২০ আগস্ট এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে। আজ রবিবার নির্বাচন কমিশন দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১৮ আগস্ট।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের মেয়াদে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সেই হিসাব অনুযায়ী, তাঁর এই মেয়াদে ২০২৮ সালের এপ্রিলে সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে হয় এবং বর্তমানে তিনি তাঁর সুস্থতার জন্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।










