সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পারিবারিক সম্পত্তির লোভ এবং জমি লিখে না দেওয়ার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে নিজের শ্বশুরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার এই ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিহতের পুত্রবধূ ও এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী হোসনা বেগম (৩৮), হত্যা বাস্তবায়নের অভিযোগে খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) এবং নিহতের পুত্র নজরুল ইসলাম (২০)। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোররাতে তাদের গ্রেপ্তারের পর দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজন named এবং অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘ সময় ধরে নিজের ভিটায় বসবাস করছিলেন। তবে তার জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম এবং সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক কলহ ও বিরোধ চলছিল। এই দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছালে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হোসনা বেগম তার দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব দেন। ঘটনার রাতে মোহাম্মদ আলী যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন হোসনা বেগম কৌশলে ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে জোরে টেনে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরদিন সকালে এই নির্মম ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন হোসনা বেগম। তিনি স্থানীয়দের কাছে দাবি করেন যে, বৃদ্ধের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং দ্রুত তাকে দাফন করার উদ্যোগ নেন। তবে নিহতের মুখে রক্তের চিহ্ন এবং গলায় কালো দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহ জাগে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, গ্রেপ্তারকৃত হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুক্তির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।