চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কৃত ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক নোমানকে সাড়ে চার মাস পর পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে। বুধবার জেলা ছাত্রদল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সংসদের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী জেলা শাখার অধীনে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নোমানুল হক নোমানের বিরুদ্ধে থাকা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাকে পুনরায় তার সাংগঠনিক পদে বহাল করা হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গত মার্চ মাসে ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাটি পরিবহন সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ফোনালাপটি ছিল নোমানুল হক নোমান এবং রামপুর নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার তাহাদ ইফতুর মধ্যে। প্রায় চার মিনিটের ওই অডিও ক্লিপে নোমানের বিরুদ্ধে মাটি পরিবহনের বিনিময়ে ১৬ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ফোনালাপে নোমানকে ইলাশপুর সড়ক দিয়ে সাত দিন মাটি পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করতে শোনা যায়।

এই অডিও ক্লিপটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মার্চ নোমানুল হক নোমানকে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন জানান, মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং তাকে স্বপদে বহাল করার একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে পরবর্তী সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।