রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করা জমি পুনরায় দখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় ইউনুস ম্যানেজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার ডান হাত ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের নাছিরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে নদীভাঙনে নাছিরগঞ্জ জামে মসজিদটি বিলীন হয়ে যায়। পরে স্থানীয় ইউনুস নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মৌখিক চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকায় ৮ শতক জমি কিনে সেখানে মসজিদটি স্থানান্তর করা হয়। তবে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের পর জমিটির মূল্য বেড়ে গেলে ইউনুস পূর্বের চুক্তি অস্বীকার করে মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় দুই বছর আগে জমিটির মূল্য ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর জমির মালিক ইউনুস মসজিদের নামে ৮ শতক জমির রেজিষ্টি করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দলিল সম্পাদনের পরেও ইউনুস ও তার ছেলে আজগর হোসেন ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। একপর্যায়ে ইউনুস তার মায়ের মৃত্যুর পর মসজিদের জমিতে জোরপূর্বক লাশ দাফন করেন এবং সেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় মঙ্গলবার নাছিরগঞ্জ বাজারে ফারুক হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ইউনুসের ছেলে আজগর হোসেন, আমজাদ হোসেন, শাহজাহান, মনিরসহ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ফারুক হোসেন গুরুতর আহত হন এবং তার ডান হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন বলেন, “আল্লাহর ঘরের সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে আজ আমাকে রক্তাক্ত হতে হয়েছে। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকায় ইউনুসের কাছ থেকে মসজিদের নামে রেজিস্ট্রি করা জমি এখন দখলের চেষ্টা চলছে। মেঘনা নদীর বাঁধ হওয়ার পর জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা জমিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি শুধু মসজিদের জমি রক্ষার চেষ্টা করেছি। এ কারণে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজগর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.ফরিদুল আলম বলেন, ৯৯৯ ফোন পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।