ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নবনির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বর্তমানে দেশে অহেতুক অস্থিরতা সৃষ্টি করে কেউ নিজেদের অজান্তেই পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না, তা আমাদের গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ৫ আগস্টের দিনটিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “বিগত দেড় দশকে অসংখ্য মানুষ গুম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের জন্য হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে। এই জাদুঘর আগামী প্রজন্মের কাছে সেই দুঃশাসনের কালো অধ্যায় এবং ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ লড়াই ও আত্মত্যাগের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরবে।”

ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশ্বস্ত করেন যে, আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই বিচার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই প্রতিহিংসামূলক হবে না। বর্তমানে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য নিয়মিত সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, ৩১ দফা ইশতেহার ও জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান।

জাদুঘরটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এটি বিশ্বের অন্যতম অনন্য একটি জাদুঘর। এখানে অতীতের ধুলোবালি পড়া পুরনো জিনিস নয়, বরং খুব সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জীবন্ত ইতিহাস ও স্মৃতি তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতি যদি কখনো পথ হারিয়ে ফেলে, তবে এখান থেকেই সঠিক দিকনির্দেশনা পাবে।”

উদ্বোধন পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং সেখানে প্রদর্শিত স্মৃতিচিহ্নগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।