পেটের বাড়তি মেদ বা ভুঁড়ি নিয়ে বর্তমান সময়ে অধিকাংশ পুরুষই বেশ চিন্তিত থাকেন। অনেকের মতে, এই ভুঁড়ি কেবল শারীরিক সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, বরং মানসিক আত্মবিশ্বাসকেও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। এই অবাঞ্ছিত চর্বি কমানোর জন্য তারা নানা ধরনের চেষ্টা করেন। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা কিংবা বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর উপাদান গ্রহণের হিড়িক দেখা যায়। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।

ভুঁড়ি কমানোর প্রচলিত প্রচেষ্টগুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি ধারণা হলো ভাত খাওয়া বন্ধ করা। অনেকের বিশ্বাস, খাদ্যতালিকা থেকে ভাত বর্জন করলেই পেটের আকার দ্রুত কমে আসবে। এই ধারণা থেকে অনেক ব্যক্তি তাদের প্রতিদিনের খাবার থেকে ভাত পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, সত্যিই কি ভুঁড়ির পেছনে ভাতের কোনো বিশেষ অবদান রয়েছে?

এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষ একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার মতে, ওজন বৃদ্ধি বা ভুঁড়ি হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শরীরের ওজন একদিনে বা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। বরং দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে তা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে। তাই নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবার খেলেই যে স্বাস্থ্য বাড়বে, তেমনটি ভাবা সঠিক নয়।

তবে ক্যালরির দিক থেকে সাদা ভাতের প্রভাব নিয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। সাদা ভাত মূলত একটি রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট। এটি খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বা সুগার স্পাইক দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর পাশাপাশি ভাতের পরিমাণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্দ্রাণী ঘোষের মতে, এক কাপ ভাতের তুলনায় এক বাটি ভাতের ক্যালরি অনেক বেশি। যারা ভাতের পরিমাপ সম্পর্কে সচেতন নন, তাদের ক্ষেত্রে ভাত ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শুধু ভাত নয়, ভাতের সঙ্গে কী ধরনের তরকারি খাওয়া হচ্ছে, সেটিও এখানে বড় ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা তেলমশলাদার খাবারের সঙ্গে ভাতের জুটি মেদ বা ভুঁড়ি বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

বিকল্প হিসেবে পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষ সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস বা লাল চালের ভাতের পরামর্শ দিয়েছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। এর সঙ্গে প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করলে ওজন বাড়ার বা ভুঁড়ি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এটি কেবল ওজন নিয়ন্ত্রণই করে না, বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং মেটাবলিক হেলথ বা বিপাক প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়। পরিশেষে, পুষ্টিবিদরা সবসময় একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা অনুসরণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন।

তথ্য সূত্র: এই সময়