প্রশাসনিক কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এই দপ্তরে দায়িত্ব পালন করবেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মো. মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে অবিলম্বে ডিএমপি সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হলো এবং এই আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে তাকে সরিয়ে নেওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণটি কী, সে বিষয়ে আদেশে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। সাধারণত প্রশাসনিক কারণে পদ পরিবর্তনের কথা বলা হলেও, কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এভাবে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে বেশ আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার কাছাকাছি সময়ে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পাকিস্তান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাদের গুলশানে অবস্থিত কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রুমের ভেতরে আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না, তবে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া জমেছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বালতি ও মগ ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরবর্তীতে বিশেষ মেশিনের সাহায্যে রুম থেকে ধোঁয়া সম্পূর্ণ বের করে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসভবনের ভেতরে থাকা টেলিভিশনের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। জানা গেছে, আগুন নেভানোর সময় হাইকমিশনার এবং তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে দীর্ঘক্ষণ ঘন ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সকাল ৯টার দিকে তাদের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার পর হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, পাকিস্তান হাইকমিশনার এবং তার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে হাইকমিশনারের স্ত্রী সাধারণ চিকিৎসায় থাকলেও, হাইকমিশনার ইমরান হায়দার আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসাধীন আছেন।
উল্লেখ্য যে, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের ডিসিকে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করার ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনের অগ্নিকাণ্ডের কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার এবং পদের গুরুত্ব বিবেচনায় এই বিষয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে।







