গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ১৮ বছর বয়সি এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শান্ত পাল (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণী চলতি বছর ময়মনসিংহের একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি একটি কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করছিলেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পারিবারিক আত্মীয়তার সূত্রে গ্রামের বাড়িতে যাতায়াত থাকায় শান্ত পালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে শান্ত পাল, সহযোগী আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় তরুণীকে কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ওই বাসায় তরুণীকে ধর্ষণ করেন শান্ত। রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে শান্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তরুণীর লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের শান্ত বলেন, খিঁচুনি উঠে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পরিবারের সদস্যরা লাশ ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত ঘটনা স্বীকার করেন। খবর পেয়ে ভালুকা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নিহতের বাড়ি থেকে শান্ত পালকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শান্ত কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের সাচাইল এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈরের সফিপুর আহম্মদনগর এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। অন্য আসামি আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং নিহত তরুণীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।





















