রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই স্মরণ প্রত্যয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তীব্র ভাষায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেছেন। রোববার (২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি বলেন, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির নারীদের নানাভাবে হেনস্থা করে আসছে এবং সাইবার বুলিংয়ের মাধ্যমে তাদের হয়রানি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্রশিবিরের এই অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছিল, ঠিক তখনই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একটি ‘ফিমেল কর্নার’ তৈরি করে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আজ আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আলোচনা সভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে যারা বিকৃত মানসিকতা নিয়ে অসামাজিক কাজ করে যাচ্ছে, তাদের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাই। আমি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে একমাত্র ছাত্র সংগঠন হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তিনি অত্যন্ত শোকের সাথে জানান, এই আন্দোলনে ছাত্রদলের মোট ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদ ওয়াসিম এবং শহীদ রাব্বিসহ যারা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, তারা একটি গণতান্ত্রিক, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নাছির উদ্দীন নাছির আরও বলেন, দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ১৭ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আন্দোলন-সংগ্রাম করে এসেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের চূড়ান্ত সফলতা অর্জিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী রাজপথের লড়াইয়ে ছাত্রদল সামনে থেকে সংগ্রাম করেছে এবং এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে এই সংগঠন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ মামুন। পুরো আলোচনা সভাটি রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয়বাদে বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দ, রাবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী মহানগরের বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রবীণ ও তরুণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।