বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বগুড়া। শনিবার (১ আগস্ট) জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার এবং একটি কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাতমাঠায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ চলাকালীন নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। এর পরপরই তারা সাতমাঠার সপ্তপদী মার্কেটের ওপর টাঙানো এনসিপির নেতাদের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাদের তীব্র ঘৃণা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান অভিযোগ করেন যে, এনসিপির বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য—ঐক্য, সাম্য এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের মন্তব্য জিয়া পরিবার এবং বগুড়ার সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে চরম আঘাত করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তানভীরের এই অপকর্মে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাকে অবিলম্বে সোপর্দ করা উচিত।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ তার বক্তব্যে বলেন, তারেক রহমান দেশের লাখ লাখ তরুণের আবেগ, প্রত্যাশা এবং সাহসের প্রতীক। তার অভিযোগ, কেবল আলোচনায় আসার জন্য এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই গাজী সালাউদ্দিন এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। পলাশ দ্রুত তার গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, যদি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্রদলের নেতারা এনসিপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। পুরো কর্মসূচি চলাকালীন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।