যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের চলমান প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন তার পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি এসেছে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার যেসব সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, মার্কিন বিশেষ দূত তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ড. মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার এই দীর্ঘমেয়াদী পথচলায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বিশেষ করে, দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে কেবল কূটনৈতিক পর্যায় থেকে সরিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা। ড. মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দুর্বলতার কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই সংকট নিরসনে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে দেশের প্রধান সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ড. মাহদী আমিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে খুব দ্রুতই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা ব্যবসায়িক ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

একই দিনে দেশের প্রথম সারির কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা হয়। সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টায় জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে উভয় পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দেশীয় বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব সংস্কার উদ্যোগের বাস্তবায়ন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।