৫০তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করল পিএসসি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ৫০তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ের মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনাবলি প্রকাশ করেছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ মোট ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থীর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের জন্য ১ হাজার ৪৭০ জন প্রার্থী এই মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

মৌখিক পরীক্ষার জন্য পিএসসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে, যাতে প্রার্থীরা পরীক্ষার দিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া এবং অন্যান্য নিয়মাবলি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মৌখিক পরীক্ষার স্থান নির্ধারিত করা হয়েছে ঢাকার আগারগাঁওস্থিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের কার্যালয়ে (শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭)।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই তাদের নিজস্ব সাক্ষাৎকারপত্র এবং ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্টের প্রবেশপত্রটি সাথে রাখতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে তা প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমের সঙ্গে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দুটি করে সত্যায়িত সেট এবং সকল মূল সনদপত্র বোর্ডে জমা দিতে হবে। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, মূল সনদপত্র প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হলে ওই প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না।

মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

১. পাসপোর্ট আকারের ছবি: অনধিক ৩ মাসের মধ্যে তোলা ৩ কপি ছবি, যা অবশ্যই প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ: সকল বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত মূল অথবা সাময়িক সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
৩. বয়স প্রমাণের সনদ: বয়স প্রমাণের জন্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষার মূল অথবা সাময়িক সনদের সত্যায়িত কপি।
৪. স্নাতক ডিগ্রি সনদ: ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা রেজিস্ট্রার কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের সত্যায়িত কপি।
৫. বৈদেশিক ডিগ্রি: বিদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইকুইভ্যালেন্স কমিটি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইভ্যালেন্স সনদের সত্যায়িত কপি।
৬. পেশাদার ডিগ্রি: এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারীদের জন্য বিএমডিসি এবং পশুচিকিৎসা ডিগ্রিধারীদের জন্য ভেটেরিনারি কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
৭. অবতীর্ণ প্রার্থীদের জন্য: যারা 'অবতীর্ণ' (Appeared) হিসেবে আবেদন করেছেন, তাঁদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব লিখিত পরীক্ষা আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে শেষ হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের সত্যায়িত কপি।
৮. শারীরিক মাপের সনদ: বিজ্ঞাপনের ২৯.৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থীর ওজন (কেজি), উচ্চতা (সেমি) ও বুকের মাপ (সেমি) সংক্রান্ত বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের সত্যায়িত কপি।
৯. শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ: সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহের প্রভাষক পদে আবেদনকারীদের জন্য শিক্ষা বিষয়ের ওপর অর্জিত ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা (বিএড/এমএড) সনদ।
১০. এনওসি (NOC): বর্তমানে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা স্থানীয় সরকার সংস্থার চাকরিতে নিয়োজিত থাকলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ছাড়পত্রের সত্যায়িত কপি।
১১. বিশেষ কোটা সনদ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
১২. পরিচয়পত্র ও ঠিকানা: জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সত্যায়িত কপি। স্থায়ী ঠিকানার সপক্ষে এনআইডি-এর সত্যায়িত কপি অথবা সিটি করপোরেশনের মেয়র, ওয়ার্ড কমিশনার, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা নোটারি পাবলিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদপত্র।
১৩. আবেদন ফরম ও ভেরিফিকেশন: অনলাইনে পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ফরমের ২টি কপি এবং প্রাক-চাকরি বৃত্তান্ত যাচাই ফরমের (পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম) ৩টি কপি যথাযথভাবে পূরণ ও স্বাক্ষর করে দাখিল করতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে কমিশন জানিয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রার্থীদের কোনো প্রকার ভ্রমণভাতা বা অন্য কোনো ভাতা প্রদান করা হবে না। এছাড়া পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন বা যেকোনো ধরণের যোগাযোগ এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক কারণ ব্যতিরেকে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হবে না। প্রার্থীরা যেন শেষ মুহূর্তে কোনো জটিলতায় না পড়েন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র আগে থেকেই গুছিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।