বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সোমবার এক টেলিফোন আলাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই ফোনালাপে জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

ফোনালাপের পর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যমান প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ সংকট এবং তা মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। এই সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'পেট্রোনাস'-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার ইব্রাহিম লিখেছেন, “আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।”

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান 'অ্যাক্সিয়াটা'-র চলমান বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'এমএমসি পোর্ট'-এর সঙ্গে সম্ভাব্য কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিমের মতে, এই উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং এর ফলে নতুন বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাস্তবমুখী সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর।”

উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মাত্র এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। গত ২১ থেকে ২২ জুন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিনি কুয়ালালামপুরে সরকারি সফরে যান। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চার দিনের সরকারি সফরে চীন গমন করেন। মালয়েশিয়া অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

তারেক রহমানের এই মালয়েশিয়া সফরের সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর করা হয়। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর এবং কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।