পেশিশক্তি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নিউমার্কেট থানা কমিটি থেকে পাঁচ নেতাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারাদেশ ঘোষণা করা হয়।

বহিষ্কৃত নেতাদের তালিকায় রয়েছেন নিউমার্কেট থানার সদস্য সচিব কে এম চঞ্চল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব শাহাদাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার এবং সুমন (চায়না সুমন)। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, বহিষ্কৃত এই পাঁচ ব্যক্তির সঙ্গে যুবদলের কোনো স্তরের নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখা যাবে না। একই সঙ্গে, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, বহিষ্কৃতদের কোনো ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার যুবদল বহন করবে না।

এই বহিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ঘটে যাওয়া একটি সংঘাত। অভিযোগ উঠেছে, কে এম চঞ্চলের অনুসারীরা ওই এলাকায় দোকানদার ও ভ্যানচালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা তোলার চেষ্টা করছিলেন। এই অনৈতিক কাজে বাধা প্রদান করলে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন চঞ্চল বিপুল সংখ্যক অনুসারী নিয়ে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান, যাতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এদিকে, এই ঘটনার জের ধরে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বহিষ্কৃতরা হলেন—ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধা, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান এবং মির্জা গোলাম রায়হান।