আদালতে বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর উত্তরার শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। বুধবার দুপুর ২টার দিকে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১০/বি রোডের ২৬ ও ২৬/এ নম্বর প্লটে অবস্থিত এই শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেখানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে তীব্র মারামারি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল দখলের এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে কোনোভাবেই দলীয় প্রভাব খাটানো কাম্য নয় এবং এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পেশাজীবী সংগঠন ড্যাবের নেতৃত্বে প্রায় ১০ থেকে ১৫০ জন নেতাকর্মী হাসপাতাল এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণ করার চেষ্টা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিতর্কের মুখে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের চরম ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এই ধাক্কাধাক্কি মারামারিতে রূপ নেয়, যাতে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন হাসপাতালের মূল ফটক ভেঙে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন নেতাকর্মী জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং তারা সতর্ক নজরদারি বজায় রাখছে।
ঘটনার গভীরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট দুপুরে একটি চিঠির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই একদল তরুণ জোরপূর্বক অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেন। জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক এ কে এম আমজাদ হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গভর্নিং বডি সংক্রান্ত হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দাবি, গভর্নিং বডির বৈধতা সংক্রান্ত মূল বিষয়টি এখনো আদালতের বিচারাধীন। আইনি চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ না হতেই নতুন গভর্নিং বডি গঠন এবং দায়িত্ব নেওয়ার এই তাড়াহুড়ো ক্যাম্পাসে এক থমথমে ও অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে।









