প্রিজনভ্যান থেকে আদালতে নেওয়ার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। শনিবার ৩ অক্টোবর দুপুরে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের সামনে আনা হলে এ ঘটনা ঘটে। হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মো. মোরশেদ তাকে আদালতে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রিজনভ্যানের ভেতরে এসআই মো. মোরশেদ বলেন, স্যার, চলেন আদালতে। জবাবে আখতারুজ্জামান ধমকের সুরে বলেন, আমাকে ধরবেন না, ডোন্ট টাচ মি। এরপর ভ্যান থেকে নামার সময় তিনি নিজের মাথায় থাকা হেলমেট খুলে ছুঁড়ে ফেলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি হেলমেট মানি না, সরকারের অবৈধ অর্ডার মানি না। তার এমন আচরণে আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে নেওয়া হয়।
পরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে তোলা হয়। এজলাসে তোলার পর বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে কোনো পুলিশ থাকবে না। তার এমন বক্তব্যের পর আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের এজলাস থেকে বের করে গেটে রাখা হয়।
প্রিজনভ্যানের ভেতরে ধমক দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমএম কোর্টের হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মো. মোরশেদ বলেন, প্রিজনভ্যান কোর্টের সামনে এলে আমি তাকে সুন্দর করে বলেছিলাম, স্যার চলেন আদালতে। তখন তিনি আমাকে তাকে না ধরতে বলেন। এরপর আমি আর কিছু বলিনি।
এদিকে পুলিশের এক সদস্য জানান, শুনানিতে বিচারকের উদ্দেশে আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা বিভিন্ন এমপিসহ পরিবারের ৭০ জন সদস্য নিয়ে ৮টি দেশ ঘুরেছি। সেসব দেশের বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মতো এমন অব্যবস্থাপনা দেখিনি। তাই আমি ওসব কথা বলেছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের আচরণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকে জামিন চান। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের জোর দাবি জানান। শুনানি শেষে আদালত আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দরে কর্মকর্তাকে হুমকির ঘটনায় করা মামলায় শুক্রবার ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়, যা পরে হুমকি-ধমকির পর্যায়ে পৌঁছায়।
















