রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ মুখোশ উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। যদিও তিনি এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে, কেন এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। পুলিশ আদৌ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না, সেই প্রশ্নে যুগ্ম কমিশনার জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য যে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সম্প্রতি এক মন্তব্য করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, সরকার তার তিন দফা দাবি মেনে নিলে ঢাকায় আর ককটেল বিস্ফোরণ হবে না। গত সোমবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দলের এক মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের তিনটি দাবি মানা হলেই ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হয়ে যাবে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বিবেচনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ আরও বিস্তারিত জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের তদন্তে জাহিদের সংশ্লিষ্টতার জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত তালিকার মধ্যে রয়েছে দেড় কেজি কস্টিক সোডা, দেড় কেজি সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, দুই কেজি তারকাঁটা এবং ককটেল মোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত টেপ। এছাড়া পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবহৃত ৯ হাজারটি কাগজের মুখোশ, ইলাস্টিক এবং ককটেল তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার ও জার জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এসব উপকরণ ব্যবহার করে ককটেল তৈরি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, “নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার মাধ্যমে এসব মুখোশ ও বিস্ফোরক জাহিদের কাছে পৌঁছায়। জাহিদ নিজেও লালবাগ ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের আরও অনেকে জড়িত রয়েছে।” পুলিশ ধারণা করছে, বিভিন্ন মিছিল এবং আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেই এই বিপুল পরিমাণ মুখোশ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।