সাধন সাহা জয়

​ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘প্রয়াস’ মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. ফোরকান মিয়া (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভর্তির মাত্র পাঁচদিনের মাথায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ফোরকান জেলার নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামের মো. রশিদ মিয়ার ছেলে।

​নিহতের বড় ভাই মো. ইমন মিয়া জানান, মাদকাসমস্যার চিকিৎসার জন্য ৭০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিন মাসের জন্য ফোরকানকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল এবং অগ্রিম হিসেবে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।

​ইমন মিয়ার অভিযোগ, গতকাল ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয় ফোরকান অসুস্থ এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা তাকে পাননি।

পরবর্তীতে নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে ফোরকানের মরদেহ রাখা রয়েছে এবং অফিস তালা দিয়ে সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে গেছেন।

এরপর স্বজনরা নিজ উদ্যোগে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরিবার ও স্বজনদের জোরালো দাবি, কেন্দ্রটির লোকজন ফোরকানকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং ইতিপূর্বেও সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​অভিযোগের বিষয়ে ‘প্রয়াস’ মাদক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক মো. রুবেল দাবি করেন, বুধবার সন্ধ্যায় ফোরকান বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল হক রনি জানান, ফোরকানকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

​বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

গতকাল দুপুরে এই নিরাময় কেন্দ্র থেকে কয়েকজন রোগী পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।