বরিশাল আদালত চত্বরে আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আদালত চত্বরের জুডিশিয়াল ভবনের সামনে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এটিকে ককটেল নয়, বরং পটকা বিস্ফোরণ বলে দাবি করেছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে বিস্ফোরণের শব্দে মুহূর্তের মধ্যেই বিচারপ্রার্থী এবং আইনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, আদালত চত্বরে প্রবেশের মূল ফটকের সন্নিকটে জুডিশিয়াল ভবনের সামনেই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহসহ আদালতের বিচারকরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন আহমেদ পান্না মনে করেন, কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিনের দাবি, ফ্যাসিস্টদের দোসররা যারা বর্তমানে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তারাই এই ঘটনার মূল হোতা। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করার কারণেই দেশে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
একই সুরে কথা বলেছেন অ্যাডভোকেট একেএম মীর জাহিদুল কবির। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিত নাশকতার উদ্দেশ্যেই ফ্যাসিস্টদের দোসররা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট বরিশালে আইনমন্ত্রীর সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র বা পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে বিএমপি পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিআইডি (CID) টিম তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে আপাতত এটি পটকা বিস্ফোরণ বলে মনে হচ্ছে। বর্তমানে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে এবং সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে।









