আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় প্রতীকে। স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচনে এখন থেকে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য এবং সাধারণ সদস্য পদের জন্য প্রতীকের তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তা আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের জন্য ১০টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদের জন্য বরাদ্দকৃত ২০টি প্রতীক হলো: কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা এবং হাঁস।
অন্যদিকে, সাধারণ সদস্য পদের জন্য নির্ধারিত ১২টি প্রতীক হলো: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব এবং মোরগ।
সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি প্রতীক হলো: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ এবং হেলিকপ্টার।
প্রতীকের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীতে প্রার্থীদের জামানত এবং নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী হলে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদের প্রার্থী হলে ৫ হাজার টাকা জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পান, তবে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
এছাড়া, প্রার্থীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশে ও বিদেশে নিজের এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিস্তারিত হিসাব প্রদান করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিধিমালার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্য নিয়েছে।
















