বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেও এখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা শ্রুতি হাসান। তবে ব্যক্তিগত জীবন হোক বা অভিনয় জীবন—নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানাতে কখনও পিছপা হন তিনি। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্টে অতিথি হয়ে বিয়ে ও মাতৃত্ব নিয়ে নিজের একান্ত ভাবনাগুলো শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।
শ্রুতির কাছে বিয়ে কেবল আইনি কাগজপত্রের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দুজন মানুষের মধ্যকার এক গভীর আত্মিক বন্ধন। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন কিংবা সামাজিক প্রথা পালনের চেয়ে তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে শ্রুতি বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর বিষয়টি হলো, আমার সঙ্গী এবং আমি যেন প্রতিদিন একে অপরকে নতুন করে বেছে নিই। আর এই পছন্দটি কোনো আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং আমাদের মধ্যকার অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে আসুক।”
অতীতে বেশ কিছু সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন শ্রুতি। এমনকি এক পর্যায়ে বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। তবে বিয়ের আগেই সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে। যদিও এই তিক্ত অভিজ্ঞতা বিয়ে নিয়ে তার মনে কোনো ভয় বা ভীতি তৈরি করেনি। বরং বিয়ের আয়োজন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এখন আরও স্পষ্ট। শ্রুতির মতে, বিয়ের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার চেয়ে সেই টাকা অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা অনেক বেশি সার্থক। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, “আমরা আসলে এসব জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন কার জন্য করি? যারা বড় অঙ্কের টাকা খরচ করেন, তাদের আমি লজ্জা দিতে চাই না। তবে বিষয়টি আমাকে সবসময় ভাবায়। বিয়েতে অহেতুক টাকা খরচ না করে সেই অর্থ দাতব্য কাজে বা অসহায়দের সাহায্যে ব্যয় করা উচিত।”
বিয়ে ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি মাতৃত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন শ্রুতি। তিনি জানান, মাতৃত্বের অনুভূতি তার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তবে পরিবার কিংবা সমাজের প্রত্যাশার চাপে নয়, বরং নিজের একান্ত ইচ্ছাতেই তিনি মা হতে চান।
ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রুতি হাসান। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে দুটি বড় প্রজেক্ট। একটি তামিল এবং একটি তেলুগু সিনেমা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তামিল সিনেমা ‘ট্রেন’-এর শুটিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে এর প্রি-প্রডাকশনের কাজ চলছে। অন্যদিকে, তেলুগু সিনেমা ‘আকাশামলো ওকা তারা’-র শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী।
















