নাসির উদ্দিন লিটন,
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাজিরা এলাকার তিন যুবকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও পাসপোর্ট নিয়ে তাদের লিবিয়ায় পাঠিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচখোলা ইউনিয়নের জাজিরা গ্রামের সাইদুল মাতব্বর ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে পাঁচখোলা গ্রামের রানা ব্যাপারী, জাজিরা পাঁচখোলা গ্রামের রবিউল মোড়ল এবং উত্তর পাঁচখোলা গ্রামের আরশ হাওলাদারের পাসপোর্ট ও জনপ্রতি ২২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। কয়েক মাস পর তাদের ইতালির পরিবর্তে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ায় নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, লিবিয়ায় আটকে রেখে তাদের ওপর নির্মম শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ মোবাইলে ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্যাতনের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ভুক্তভোগীদের পরিবার বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধারদেনা করে সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবারগুলো আরও ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা করে সাইদুল মাতব্বরের স্ত্রী রিয়া বেগম, তার দুই ভাই লিটন মাতব্বর ও বাদল মাতব্বরসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেয়। এরপরও ভুক্তভোগীদের মুক্তি না দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করা হলে পরিবারগুলো আইনের আশ্রয় নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রনি ব্যাপারী, শিরিন বেগম ও সুমা বেগম মাদারীপুরের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে ২০২৬ সালের মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— জাজিরা পাঁচখোলা গ্রামের সাইদুল মাতব্বর, তার স্ত্রী রিয়া বেগম, লাখি বেগম, লিটন মাতব্বর এবং বাদল মাতব্বর।এ মামলা সংক্রান্ত ব্যাপারে ৩/৮/২৬ তারিখ বিকাল তিন ঘটিকার সময় ভুক্তভোগীদের পরিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, মামলার এক আসামি লাখি বেগমকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








