ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নয়াদিল্লির প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে একটি ইতিবাচক ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি, বৈঠকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ভারতের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে একাধিক গুরুতর আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং গত নভেম্বরে একটি মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশ ছাড়ার পর প্রথমবারের মতো এক অনলাইন অডিও সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইঙ্গিত প্রদান করেন। তবে ভারতে অবস্থান করে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে এই সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকা এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে এই বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি তারা আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে।

অন্যদিকে, ভারতের হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ও সংবেদনশীল ইস্যু বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে এবং আরও শক্তিশালী করতে তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের এই বৈঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স