সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সোমবার (১০ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি দাপ্তরিক কাজে প্রচলিত বিদ্যুতের নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এই উদ্যোগের প্রথম পর্যায়ে বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সিংহভাগ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনাটি জারির সাথে সাথেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির প্রসার ঘটাতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয় ওই সভায়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
কেবল প্যানেল স্থাপন নয়, দেশে সৌর ইনভার্টার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়েও সভায় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। একইসাথে, সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করতে একটি কার্যকর মডেল তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। সরকারের এই সামগ্রিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা এবং সরকারি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।







