সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশির শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি (ভার্চুয়ালি) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বিএমইটি এবং বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভায় নিহতদের পরিচয় দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সরকারি খরচে ও ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মানসিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ দূতাবাস। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের বিধি ও আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করে সরকারি খরচে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে অথবা সৎকার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় নিহত ১৬ জনের প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এককালীন বিশেষ মানবিক অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মৃত কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে যাতে তারা প্রয়োজনীয় সব সেবা দ্রুত পেতে পারেন। গত রোববার (৯ আগস্ট) রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়, যা পুরো দেশে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।