শেরপুর সদর উপজেলার হাতি আগলা গোয়ালপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ২০০টি কলাগাছ কেটে ফেলা ও শাক-সবজি ও শিমগাছের মাচা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় দুই নারীকে মারধর করে আহত করারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. আনার আলী নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হাতি আগলা গোয়ালপাড়ার একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে মো. নজরুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, মো. ফারুক, মো. নাঈম, মো. আলাল উদ্দিন, মো. হুদা মিয়া ও মো. জিহাদসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন আসামিরা দা, লাঠি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা সেখানে থাকা আনুমানিক ২০০টি কলাগাছ কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী দাবি করেছেন। একই সঙ্গে শিম ও বিভিন্ন শাক-সবজির গাছের মাচা ভাঙচুর করে আরও প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলাগাছ কাটার ঘটনায় বাদীর স্ত্রী সাজেদা বেগম বাধা দিতে গেলে কয়েকজন আসামি তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ সময় সাজেদা বেগমকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গেলে হেলেনা বেগম নামে আরেক নারীও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তার মাথা, পিঠ, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
পরে দুই নারীর চিৎকার শুনে বাদীসহ স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আসামিরা ঘটনার বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে হত্যাসহ লাশ গুম করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত দুই নারীকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করায় থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাদী।
তবে অভিযোগে ওঠা ঘটনাটি সম্পর্কে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
















