মোঃ আবুল কালাম আজাদ,

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় র‍্যাব-১৪-এর বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৫২৪ পিস অবৈধ ভারতীয় কম্বলসহ চার চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত দুটি কাভার্ড ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কম্বলের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

র‍্যাব-১৪ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহের সিপিএসসির একটি আভিযানিক দল তারাকান্দা থানার কোদালধর বাজার এলাকায় ‘মেসার্স মুঈন এন্টারপ্রাইজ’ সি পি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের সামনে পাকা সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে নওগাঁ জেলার মোঃ জেমস (৩০) এবং ময়মনসিংহ জেলার মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার (৩০), মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৩) ও মোঃ রিপন (৪৮)কে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আনা ৮৩৫ পিস ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়।

র‍্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ভারতীয় কম্বলবোঝাই আরও একটি গাড়ি তারাকান্দা এলাকায় প্রবেশ করছে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ১১টার দিকে অপর গাড়িটিকে ধাওয়া করা হলে সেটি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার পোড়াকান্দুলিয়া খাদ্য গুদামের সামনে রেখে চালকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। এ সময় পলাতক চোরাকারবারি হিসেবে মতিউর রহমান খান সোহাগ (৩১) ও মোঃ রাকিবুল হাসান (৩২) এর নাম পাওয়া যায়।

পরে ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৬৮৯ পিস ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। এতে দুই গাড়ি থেকে সর্বমোট ১ হাজার ৫২৪ পিস অবৈধ ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাই পথে ভারতীয় কম্বল এনে ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দ করা আলামতসহ তাদের ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে র‍্যাব-১৪-এর বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।