জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি রেলস্টেশন এলাকায় প্রতিদিন দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ক্ষুধার তাড়না আর মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে যুবক ওবাইদুল তার অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মা নুরবানুকে কাঁধে, কোলে কিংবা পিঠে বহন করে ভিক্ষা করেন। ভিক্ষার সামান্য আয়েই কোনোমতে চলে মা-ছেলের জীবন।
জানা গেছে, ওবাইদুলের মা নুরবানু কয়েক বছর আগে মাথায় গুরুতর ক্ষত হওয়ার পর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও তিনি এখন আর নিজে দাঁড়াতে, হাঁটতে কিংবা বসে থাকতে পারেন না। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচবিবি রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় মাকে সঙ্গে নিয়েই ভিক্ষা করতে হয় ওবাইদুলকে।
ভিক্ষা শেষে রাত কাটে পাঁচবিবি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। কারণ তাদের কোনো স্থায়ী বসবাসের জায়গা নেই। স্টেশনই এখন তাদের একমাত্র আশ্রয়।
ওবাইদুল জানান, পাবনার ভেড়ামারা এলাকার বাসিন্দা জয়নাল হোসেনের সঙ্গে তার মা নুরবানুর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর থেকে বাবা আর তাদের কোনো খোঁজখবর নেননি বলে অভিযোগ করেন ওবাইদুল। দীর্ঘদিন ধরে মা-ছেলে স্টেশনেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি কাজ করতে পারি। কিন্তু মাকে একা রেখে কোথাও যেতে পারি না। মায়ের মানসিক সমস্যা রয়েছে। একা ছেড়ে দিলে কোথায় চলে যাবেন, তার কোনো ঠিক নেই। তাই বাধ্য হয়ে মাকে নিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাই।”
মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে ওবাইদুল নিজেই তার গোসল, খাওয়ানো, এমনকি প্রসাব-পায়খানার সব কাজ করেন। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি মাকে ছেড়ে যেতে রাজি নন।
সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে তার একমাত্র আবেদন, মায়ের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। তাহলে আর তাকে প্রতিদিন কাঁধে করে মাকে বহন করতে হবে না এবং নুরবানুর কষ্টও অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয়দের মতে, পাঁচবিবি রেলস্টেশন এলাকায় মা-ছেলের এই করুণ দৃশ্য এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তারা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই অসহায় মা-ছেলে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ পান










