কামরুজ্জামান

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাককর্মী বিথী আক্তার (২২) হত্যা মামলায় প্রায় দুই মাস পর তাঁর স্বামী ও প্রধান অভিযুক্ত মো. মজনু রাজাকে (৩৯) চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পুলিশের দাবি, স্ত্রীর প্রতি পরকীয়ার সন্দেহ ও দাম্পত্য কলহের জেরে বিথীকে হত্যা করে পালিয়ে যান মজনু। গ্রেপ্তারের পর আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআইয়ের ১৩ অক্টোবরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট সকালে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠসংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে বিথীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় বিথীর বাবা বাদশা মিয়া আশুলিয়া থানায় মজনু রাজাকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, ঘটনার পর থেকে পলাতক মজনুকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে তিনি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে তথ্য পায় তদন্ত দল। গত ৬ অক্টোবর রাতে ভোলাহাটের খাসপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় চার বছর আগে বিথী ও মজনুর বিয়ে হয়। বিথী স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন; মজনু গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় অটোগ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিথীর সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে মজনুর সন্দেহ থেকে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তবে মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। ফলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিশ্চিত হওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।