সামান্য বৃষ্টিতেই আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল রাজধানীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকা। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে এক ঘণ্টার মধ্যেই হাঁটু পরিমাণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে এই এলাকাটি। এর ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে রিকশাসহ ছোট যানবাহনের সংকট দেখা দেয় এবং সুযোগসন্ধানী চালকরা ভাড়ার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করে দেয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চললেও এর প্রভাব ছিল দীর্ঘমেয়াদী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, ঢাকা কলেজের মূল ফটক এবং নায়েমের গলি থেকে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ হয়ে নিউমার্কেটের দ্বিতীয় ফটক পর্যন্ত সড়কের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঢাকা কলেজের মূল ফটক ও নায়েমের গলিতে পানি জমে থাকায় আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে কিংবা হলে ফেরার সময় তাদের নোংরা পানি মাড়িয়ে কষ্টকরভাবে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
জলাবদ্ধতার এই প্রভাব সরাসরি পড়েছে নিউমার্কেটের ব্যবসায়। রাস্তায় পানি জমে থাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বেচাকেনা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নূরজাহান সুপার মার্কেটের দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর আক্ষেপ করে বলেন, “আমি ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। প্রতিবার সামান্য বৃষ্টি হলেই মার্কেটের সামনে পানি উঠে যায়। পানি জমে থাকলে কাস্টমাররা মার্কেটে আসতে চান না, ফলে আমাদের ব্যাপক লোকসান হয়। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কথা বলা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”
একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মিজান। তিনি জানান, “বৃষ্টি হলেই ঢাকা কলেজের গেট থেকে নায়েমের গলি ও হলপাড়া এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। রাস্তায় হাঁটু সমান পানি থাকায় খাবার সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।” দীর্ঘদিন ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং একটি স্থায়ী সমাধানের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।










