নিজস্ব প্রতিবেদক:

দোহার উপজেলার এক পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা পেয়েছে। মৃত দবীর উদ্দীন ব্যাপারীর একাধিক সন্তান অভিযোগ করেছেন, সম্পত্তির লোভে তাদের ছোট বোন ডলি আক্তার ও অর্থ যোগান দাতা প্রবাসী ভাই জাফর (অর্থ যোগান দাতা) বাবাকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দী রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন, যার পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ডলি আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ, ভিডিও সাক্ষাৎকার এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, পরিবারের মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগকারী ছোট ছেলে আব্দুল হক দাবি করেন, তার বোন ডলি আক্তার বিভিন্ন কৌশলে বাবার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন ছলচাতুরি/প্রতারণা করে। এরপর বিষয়টি অন্য ভাই-বোনদের কাছে প্রকাশ না পায়, সে জন্য বৃদ্ধ বাবাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দবীর উদ্দীন ব্যাপারী যে বাড়িতে অবস্থান করতেন, সেখানে চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে তার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তারা বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নানা অজুহাতে বাধা দেওয়া হতো এবং তাকে মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হতো। তাদের দাবি, একজন অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তির প্রতি এমন আচরণ তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটায়।

ভিডিও সাক্ষাৎকারে পরিবারের একাধিক সদস্য একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, তারা বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। ডলি আক্তারের স্বামী সেলিম ওরফে সেলিম ডাক্তার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি বলে তাদের দাবি। বরং বিরোধ আরও গভীর হয় এবং শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক পরিস্থিতিতে দবীর উদ্দীন ব্যাপারীর মৃত্যু ঘটে।

অভিযোগকারী আব্দুল হক বলেন, তার বাবার মৃত্যুকে তারা স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না। তার দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতন, একাকী অবস্থায় আটকে রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার ঘটনাগুলো গভীর তদন্তের দাবি রাখে। এ ঘটনায় তিনি দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্পত্তি হস্তান্তর, বৃদ্ধ বাবার দেখভালের দায়িত্ব এবং পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক অবিশ্বাস। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। অভিযোগে উল্লিখিত নির্যাতন, গৃহবন্দী করে রাখা কিংবা সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ডলি আক্তার, তার স্বামী সেলিম ডাক্তার অথবা তাদের পরিবারের কোনো সদস্যের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা একই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নতুন নয়; তবে কোনো বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু যদি মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত। এখন দোহার থানা পুলিশের তদন্ত এবং প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের ওপরই নির্ভর করবে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন।

এদিকে ন্যায় বিচারের প্রতীক আদালতে মুচলেখা দিয়ে আসার পরেও ডলি আক্তার গং রা আব্দুল হক ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি মাদক, নারী নির্যাতন,মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর সহ গুম করে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে এবং টাকা পাবে দাবি করছে এই মর্মে ঢাকা জেলা জয়পাড়া থানাধীন কার্তিকপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ডলি আক্তার গং রা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেন। এতে স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছেন এটি আদালতের অবমাননা ও যথাযথ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

চলমান