চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পুলিশি হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফসহ এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নারী নির্যাতন মামলার এই আসামিকে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের কালীবাড়ি বাজার এলাকা থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি পরদিন বুধবার (২৯ জুলাই) জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত মঙ্গলবার নারী নির্যাতন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মোহাম্মদ লোকমানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহ আলম তাঁর সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে বারশত ইউনিয়নের কালীবাড়ি বাজারে অভিযান চালান। সেখানে বাজার করতে আসা মোহাম্মদ লোকমানকে (৪৮) পুলিশ আটক করে। লোকমান উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গুন্দ্বীপ গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে এবং তিনি স্থানীয় উপজেলা বিএনপির একজন সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পুলিশ লোকমানকে আটক করার পরপরই স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পুলিশের সাথে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হট্টগোলের সুযোগ নিয়ে পুলিশি হেফাজত থেকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থাতেই লোকমানকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন জানান, পুলিশ লোকমানকে আটক করেছিল, তবে পরবর্তীতে সেখান থেকে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুলিশের সাথে পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল সৃষ্টি করে লোকমানকে ছিনিয়ে নেওয়ার এই ঘটনার সাথে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে জুম্মা খান, জাহাঙ্গীর খান, আলী হোসেন, মো. আবু তৈয়ব, মো. শাহজাহান এবং মুনছুরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া গোবাদিয়া, পশ্চিমচাল ও বারশত এলাকার আরও বেশ কিছু ব্যক্তি এই ছিনতাইয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়েছিল, তবে আসামিকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। তিনি আরও জানান, মোহাম্মদ লোকমান একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।